ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের মেজো ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জ্ঞানদানন্দিনী দেবীর কন্যা। তার সঙ্গে বিখ্যাত লেখক ও ‘সবুজ পত্র’-এর সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর বিবাহের কারণে নামের শেষে চৌধুরানী শব্দ যুক্ত হয়েছে, নইলে যে-স্নেহাস্পদা ভাইঝিকে ‘ছিন্নপত্র-র চিঠিগুলাে কবি লিখেছিলেন। তিনি শুধুই ইন্দিরা বা ইন্দিরা দেবী (১৮৭৩-১৯৬০)।
সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ব্রিটিশ ভারতে প্রথম। আই.সি.এস অর্থাৎ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়। উত্তীর্ণ ইংলণ্ডের ভারত-সাম্রাজ্যের প্রথম আমলা। তাঁর কন্যা ইন্দিরা দেবীও অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিতা ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’ পেয়েছিলেন। অত্যন্ত উত্তমরূপে ফরাশি ভাষা জানতেন এবং আমৃত্যু যে-ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয় নি। সংগীতে যে তার স্বভাবপারদর্শিতা ছিল, তার পরিচয়। মিলবে রবীন্দ্রস্মৃতি’ গ্রন্থের “সংগীতস্মৃতি” অংশে।
ঠাকুরবাড়ির ভিতর মহলের যে-সব মানুষ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখেছেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ও সর্বশ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায় ভ্রাতুস্পুত্রী ইন্দিরার স্মৃতিচারণা রবীন্দ্রস্মৃতি’কে। ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী প্রয়াত হয়েছেন অর্ধশতাব্দীর অধিক কাল হল, কিন্তু পিতৃব্যকে নিয়ে তার এই স্মৃতিকথা রবীন্দ্রচর্চার ক্ষেত্রে ও রবীন্দ্ৰজিজ্ঞাসু পাঠকের নিকট অবশ্যপাঠ্য আকরগ্রন্থ হিসেবে সর্বদা বিবেচিত হওয়ার যােগ্যতা রাখে যদিও ‘রবীন্দ্রস্মৃতি’ শীর্ণত একটি বই। | যারা রবীন্দ্র-গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তাঁরা এ-বইয়ের মূল্য সম্পর্কে পূর্ণঅবহিত। কিন্তু বইটি এখন তেমন সহজলভ্য নয়, পুনর্মুদ্রণ তাই জরুরি। সারস্বত সমাজেরই স্বার্থে। কবি ও মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে হৃদয়ঙ্গম করার অনুপ্রেরণা জোগায় এই স্মৃতিকথন।